To join BJP Mukul Roy has to apply to Dilip Ghosh


সৌমিক কর্মকার, কলকাতা : মুকুল রায়ের বিজেপিতে যাওয়া পাকা। বিশেষ সূত্র মারফত এই খবর অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কবে তিনি গেরুয়া শিবিরের অংশ হবেন, সেই তারিখ নিয়েই এখন নানা টালবাহানা চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এত সময় লাগছে? সবই যদি পাকা হয়ে যায়, তাহলে এত দড়ি টানাটানি কেন চলছে? নাকি দু’পক্ষই কোনও মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন?

বিজেপির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এত সময় লাগার কারণ একটি নিয়ম। যা নিয়ে এখন দু’পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তাই সময় লাগছে। এখন দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা চলছে। আর তা সম্ভব হলেই মুকুল রায় বিজেপির অংশীদার হয়ে যাবেন।

কী সেই নিয়ম? বিজেপির দলীয় সংবিধানের আর্টিকেল নম্বর ৯ অনুযায়ী, কেউ ওই দলে যোগদান করতে চাইলে, তাঁকে লিখিত আবেদন করতে হবে। ফিলাপ করতে হবে ফর্ম-এ। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকার বাসিন্দা সেখানকার রাজ্য নেতৃত্বকে আবেদন করতে হবে। সেই হিসেবে মুকুল রায়কে বিজেপিতে যোগদান করতে হলে আবেদন করতে হবে এ রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বকে। চিঠি দিতে হবে দিলীপ ঘোষকেই। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সভাপতি। তিনি এ রাজ্যের দলের মাথা।

আর এখানেই গোল বাঁধছে বলে মুকুল শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, মুকুল রায় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে সরাসরি দিল্লির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কারণ, তিনি দিল্লিতেই বিজেপির কেন্দ্রীয়স্তরের নেতা হিসেবে যোগ দিতে ইচ্ছুক। এর ফলে বিজেপির রাজ্যনেতারা তাঁর উপর তেমন প্রভাব খাটাতে পারবেন না। তাঁকে কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না। তাছাড়া মুকুল রায়ের যা রাজনৈতিক প্রতিপত্তি তাতে দিলীপ ঘোষের কাছে তাঁর আবেদন করা নিজের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলাও বলা যেতে পারে। তাই এ পথে মুকুল যেতে রাজি নন বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি।

তবে উপায় আরও একটা আছে। নিজের দিল্লির ঠিকানা থেকেও আবেদন করতে পারেন মুকুল রায়। সেক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির এ রাজ্যের নেতাদের সহজেই এড়িয়ে যেতে পারবেন তিনি। কিন্তু মুকুল শিবিরের একটি অংশের ব্যাখ্যা আবেদন করে বিজেপিতে যেতে তিনি নারাজ। সেক্ষেত্রে দর কষাকষিতে বিজেপির সব কথাই তাঁকে মেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে তিনি যোগদানের ঠিক আগেই ওই আবেদন করতে আগ্রহী বলে ওই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের একটা অংশ মুকুলের প্রস্তাবে রাজি। কিন্তু দলের আরএসএসপন্থী নেতারা বেঁকে বসেছেন। তাঁরা নিয়ম ভেঙে মুকুলকে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করছেন। কারণ, সাংগঠনিক নিয়ম বিজেপিতে বেশ কড়া। আরএসএস থেকে কাউকে বিজেপিতে আনতে গেলে ওই সংগঠনের কাছে আবেদন করতে হয়। তাঁকে ‘লিয়েন’-এ নিতে হয়। প্রথম পদ হয় ‘সংগঠনমন্ত্রী’ বা সাধারণ সম্পাদক। এই নিয়ম সকলের ক্ষেত্রে সমান। তাই মুকুল রায়ের ক্ষেত্রেও নতুন সদস্য হিসেবে যোগদানের নিয়ম কেন মানা হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই নেতারা। একই সঙ্গে মুকুল ইস্যুতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথম থেকেই এ রাজ্যের নেতাদের গুরুত্ব দেননি। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে এ রাজ্যের নেতাদের। ফলে এ রাজ্যের নেতৃত্বের কাছে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে মুকুলকে নেওয়া হলে, সেই ক্ষোভ অনেকটা সামাল দেওয়া যাবে বলেই মত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশের।

তাই মুকুলের বিজেপিতে যোগদান পাকা হয়েও কোনও কিছু ফাইনাল হচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতিতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই। কেউ কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। জটিলতা কাটানোর সব রকম চেষ্টা চলছে দুই শিবির থেকে। আজ, মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ছিল। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশ কয়েকজনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেই সাংবাদিক বৈঠক বাতিল হয়েছে বিজেপি সূত্রে খবর। মুকুল রায় এখন দিল্লিতে। তাঁর সঙ্গে শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন বিজেপির সসর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেখানেই সব জট কাটবে বলে আশায় সবপক্ষ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*