হামলা, হত্যাসহ সব অপরাধই করছে রোহিঙ্গারা

সর্বশেষ সোমবার ভোর রাতে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)৷ তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে৷

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাগান এলাকায় ছয়-সাত জনের রোহিঙ্গা ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো৷ তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে আটক করা হয়৷ তাদের সবার বাড়ি রাখাইনের মংডুর আকিয়াব এলাকায়৷ তাদের কাছ থেকে ৫টি রামদা উদ্ধার করা হয়৷

মেজর রুহুল আমিন আরো জানান, ‘‘আটকরা সবাই কুতুপালং এবং বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা৷ তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের লোক জনকে জিম্মি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে৷’’

এর আগে ২৮ অক্টোবর রামুতে এক বাংলাদেশিকে গলাকেটে হত্যা করে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী৷ নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল জব্বার (২৩) ৷ তিনি খুনিয়াপালংয়ের কালুয়ারখলীর হেডম্যান বশির আহম্মদের ছেলে৷ বনের গাছ কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ জানায়৷ পুলিশ এই ঘটনায় হাফেজ মোস্তফা নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করেছে৷

একই দিন রাতে উখিয়ার বালুখালী ১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে স্থানীয়দের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় রোহিঙ্গারা৷ রোহিঙ্গাদের হামলায় ৪ জন স্থানীয় ব্যক্তি গুরুতর আহত হন৷ পাঁচ জন বাংলাদেশি এখনো নিখোঁজ৷

পুলিশ জানায়, রোহিঙ্গা শিবিরে নলকূপ স্থাপন করা নিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়দের বিরোধ সৃষ্টি হয়৷ রাতে রোহিঙ্গারা ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে শিবিরের মাইকে ঘোষণা করে সংঘবদ্ধভাবে স্থানীয়দের উপর  হামলা করে৷

এর আগে গত ২১ অক্টোবর টেকনাফে রোহিঙ্গা দম্পতির হামলায় কবির আহমেদ নামে পুলিশের এক এএসআই আহত হন৷ টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকে রোহিঙ্গা নারী দিল বাহার ও তার স্বামী সৈয়দ আহমদ অবৈধভাবে একটি মুদির দোকান স্থাপনের চেষ্টা করে৷ এ সময় ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবির আহমদ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান তৈরির কাজে বাধা দেন৷ এর ফলে প্রথমে তর্কাতর্কি ও পরে হাতাহাতি শুরু হয়৷ ওই রোহিঙ্গা দম্পতি হামলা চালালে এসআই কবির আহত হন৷

গত এক মাসে টেকনাফ ও উখিয়া থানা পুলিশ রোহিঙ্গাদের সংঘটিত অন্তত ৩০টির মতো অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করেছে৷ আর হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ৩০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে৷ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি৷ কিন্তু এখন তারা আমাদের গলার কাঁটায় পরিণত হচ্ছে৷ রোহিঙ্গাদের মধ্যে নানা সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে৷ তারা হত্যা, চুরি, ডাকাতি ও মাদক পাঁচারসহ হেন কোনো অপরাধ নাই যা তারা করছে না৷ তাদের কাছে আমরা কোণঠাসা৷ তারা গাছ কাটছে, হামলা করছে৷’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এখানে আসা রোহিঙ্গারা শিক্ষিত নয়, তাদের মধ্যে উগ্রতা বেশি৷ তাদের মধ্যে জঙ্গি বা বিদ্রোহীও থাকতে পারে৷ সেনাবাহিনী থাকায় তারা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি৷ আমার দাবি, তাদের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হোক৷’’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভিতরে উগ্রতা বা রুক্ষতা থাকা স্বাভাবিক৷ কারণ, তারা নির্যাতিত হয়েছেন৷ নিজেদের সামনে স্বজনদের হত্যার শিকার হতে দেখেছেন৷ কিছু কিছু রোহিঙ্গা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে৷ তারা হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধও করছে৷ তাদের কাছে অস্ত্রসস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে৷ তবে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়৷ আমরা ফোর্স বাড়িয়েছি৷ সরকারের অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে৷’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সবাই শরণার্থী বেশে এসছে৷ তাদের মধ্যে আরসা, জঙ্গি বা বিদ্রোহী কেউ আছে কিনা তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পরছি না৷ তবে আমরা নজর রাখছি৷’’

এদিকে রোহিঙ্গাদের একাংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীই বিব্রত৷ তারাও এটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না৷ কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের মুখপাত্র ইউনূস আরমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যেই কিছু খারাপ লোক অপরাধে জড়িয়ে আমাদের ক্ষতি করছে৷’’

তবে তিনি দাবি করেন, ‘‘২৫ অগাস্ট থেকে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যেই ওই খারাপ লোকরাও এসেছেন৷ যারা আগে থেকেই রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পে আছে, তারা এর সঙ্গে জড়িত নয়৷ আর অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয়রা কেউ কেউ জড়িত৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে…

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*