নিঃসন্তান দম্পতির স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে


দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগিরাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় কষ্টে থাকা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চাইলে ডাক্তাররা তাদের সাহায্য করতে পারবেন বলে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর বৈধতা দেয়া হয়েছে।

তবে এবার বড় ধরনের কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন ভারেতর এক নিঃসন্তান দম্পতি।

তারা এক চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, ‘আমরা উভয়েই বয়স অনুযায়ী সুস্থ আছি এবং কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত নই। তবে জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করানো অনায্য হবে। তাই আমাদের রক্ষা করতে মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক।’

স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনকারী দম্পতি হলেন- মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ৮৬ বছর বয়সী নারায়ণ লাভাত এবং তার স্ত্রী মুম্বাইয়ের চারনি রোডে আর্য ই এস উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ৭৯ বছর বয়সী ইরাবতীর লাভাত।

স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন প্রসঙ্গে নারায়ণ লাভাত বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির কাছে লিখেছি, কারণ তার মৃত্যুদ- মওকুফের ক্ষমতা আছে। মৃত্যুদ- মওকুফের ক্ষমতা থাকলে, মৃত্যুর অধিকার প্রদানের ক্ষমতাও থাকা উচিত।’গত বছরের ২১ ডিসেম্বর তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি লেখেন।বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির দফতর জানিয়েছে, চিঠির উত্তর দিতে সময় লাগবে।

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং ‘সমাজের জন্য অবদান’ রাখতে পারেবেন না-এমন ভাবনা তারা ‘অ্যাক্টিভ ইউথেনেশিয়া’ পদ্ধতিতে মারা যাওয়ার আবেদন করেছেন বলে হিন্দুস্থান টাইসমকে জানান এ দম্পতি।

এ দম্পতি আরও জানান, বিয়ের প্রথম বছরে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, সন্তান নেব না। এখন, এই বয়সে এসে আমাদের নিজেদের বোঝা অন্যদের ওপর চাপাতে চাই না। তাই স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চাই।

যদিও ভারতে এ ধরনের পদ্ধতিতে মৃত্যুবরণে আইনত কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে পিডি হিন্দুজা এবং গবেষণা কেন্দ্রের স্নায়ু গবেষক ডা. রূপ গুরাসাহানি বলেন, ‘হাতেগোনা কয়েকটি দেশে চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুবরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তা দুরারোগ্য রোগে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগকারীর জন্য প্রযোজ্য।”

‘অ্যাক্টিভ ইউথেনেশিয়া বা স্বেচ্ছা মৃত্যু’ পদ্ধতিতে এক ধরনের ব্যাথানাশক ওষুধ অতি মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়, এতে সজ্ঞান অবস্থায় কোনো রকম যন্ত্রণা অনুভব ছাড়াই ব্যক্তি মারা যান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*