তিন সন্তান রেখে চাচার সাথে উধাও সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী


গাজীপুর কাপাসিয়ায় সৌদিপ্রবাসী মহসিন শিকদারের স্ত্রী তিন সন্তানসহ প্রায় এক মাস ধরে ‘নিখোঁজ’। মহসিনের অভিযোগ, এর পেছনে প্রতিবেশী চাচা ফখরুল শিকদার জড়িত। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মহসিনের অভিযোগ গ্রহন করছে না। স্ত্রী-সন্তানদের ফেরত পেতে সহযোগিতা চেয়ে শুক্রবার গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মহসিন (৪২)।

কাপাসিয়ার লাহুরী গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মহসিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি ৮ বছর আগে আমেনা খাতুন ডলিকে বিয়ে করেন। পরে বিদেশ থেকে প্রতিবছর একবার তিনি দেশে আসতেন। সংসারে তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ৭-৮ মাস আগে জানতে পারেন তার স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশী চাচা ফখরুল শিকদারের (৪৫) পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অশ্লিল ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৩ জানুয়ারি তিনি দেশে এসে ভিডিও দেখে ঘটনার সত্যতা পান। ওই রাতেই চাচা ফখরুল তার বাড়িতে হামলা করে মোবাইল ফোন, আড়াই শ রিয়েল ও একটি টর্চলাইট নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে কোন বিষয়ে মুখ না খুলতে হুমকি দিয়ে যায়। কিছুদিন আগে স্ত্রী ডলি বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জ যাওয়ার কথা বলে সন্তানদের নিয়ে চলে যায়।

পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ডলি বাবার বাড়ি না গিয়ে ফখরুলের সাথে পাশের সোনারুয়া গ্রামের সজীব বেপারীর বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। তিনি সেখানে গেলে তারা অন্যত্র পালিয়ে যায়। তারপর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে একবার তার বড় ভাই জাহিদুল শিকদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন ফখরুল। ওই টাকা দিলে নাকি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ফিরিয়ে দেবেন। ঘটনার পর তিনি কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

মহসিন আরো বলেন, ‘দুই দিন আগে ফখরুলের বড় ভাই সানাউল্লাহ শিকদার আমাদের বাড়িতে এসে আমার বৃদ্ধ মাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় হুমকি দিয়ে বলেন, ওই ঘটনার পর তার ভাইয়ের (ফখরুল) স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন। এখন আমার স্ত্রীকে এনে নাকি তার ভাইকে বিয়ে করাবেন।’

মহসিন আরো জানান, ফখরুল মাদক ব্যবসায়ী এবং নেশাখোর। তার বড় ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি। বোন মাসুদা শিকদার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি।

পরে তিনি র‍্যাবএর অধিনায়কের কাছে অভিযোগ করেন। বর্তমানে স্ত্রী, মেয়ে ইশরা (৬), ইলমা (৪) ও একমাত্র ছেলে রুস্তম (২) কোথায় আছে, তিনি জানেন না। স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ফখরুলের যথাযথ বিচার দাবি করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*