গুগল সম্পর্কে কিছু তথ্য যা হয়তো আপনি জানেন না!

কী কেন কীভাবে

বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তির যুগে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই গুগল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখেন! প্রথমে শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে সার্চ, মেইল, বিজ্ঞাপন, ক্লাউডসহ নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে গুগল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউনটেইন ভিউ শহরে অবস্থিত গুগলের কার্যালয়। মানুষের কাছে তথ্য সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে প্রয়োজনীয় সব তথ্যই আপনার সামনে হাজির করতে সক্ষম গুগল। গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই জেনে নেই যেকোনো অজানা তথ্য। ইন্টারনেটে কোনো কিছু জানতে অামরা গুগলে সার্চ দেই, এরপর প্রাপ্ত অনেক ফলাফল থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় ফলাফল বেছে নেই।

গুগল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক ইন্টারনেট এবং সফটয়্যার কোম্পানি। বিশেষভাবে গুগল সার্চ ওয়েভের বৃহত্তম এবং শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন। গুগল এর প্রধান কাজ হচ্ছে পৃথিবীর যাবতীয় তথ্য সুবিণ্যস্ত করা এবং সেগুলো সর্বসাধারণের জন্য উপযোগী করে প্রকাশ করা। এর মূলমন্ত্র হলো Don’t be evil.

গুগলের প্রতিষ্ঠাতা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন পিএইচডির ছাত্র ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রাইন।

আজকের জায়ান্ট গুগলের শুরুটা এমন বড় কিছু ছিল না। শুধু ছিল নতুন কিছু একটা করার চেষ্টা। ল্যারি আর ব্রাইন নেহাত গবেষণা প্রকল্প হিসেবে এর কাজ শুরু করেন। তাদের তত্ত্ব ছিল, তখনকার কৌশলগুলোর থেকে নতুন কৌশলে কোনো একটা সার্চ ইঞ্জিন বানানো যা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের একটা হিসাবের ভিত্তিতে আরো ভালো ফলাফল দেবে। এই ব্যতিক্রমী চেষ্টাই গুগলকে এনে দেয় সেই বিখ্যাত এলগরিদম, যার মাধ্যমে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন সবচেয়ে সহজলভ্য ও সঠিক তথ্যদাতা হয়ে ওঠে।

১৯৬৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন পিএইচডি কোর্সের ছাত্র ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রনি এর কাজ শুরু করেন। ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুই বন্ধু একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গুগলের প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট এটি পাবলিক লিমিটেড হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সেই সময় ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রাইন ও এরিক স্কমিট গুগলে ২০ বছর একসাথে কাজ করতে একমত হন। সময়ের সাথে নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা যোগ করে গুগলে প্রতিনিয়ত তাদের আকার ও উপযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। আজকের পৃথিবীতে গুগল এক অবধারিত নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে নতুন নতুন কোম্পানি কিনে তার বহুমুখিতা সুদৃঢ় করেছে।  ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কয়েক বছর ধরে গুগলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ব্যার্থ হওয়া তারা এক পর্যায়ে গুগল বেঁচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আগে শেস প্রচেষ্ঠা হিসেবে ২০০৪ সালে গুগল সার্চ ইঞ্জিণকে পাবলিক হিসেবে উন্মুক্ত করে দেয়। পরে সাফল্যে ধারা অব্যাহত থাকে গুগলের। বর্তমানে গুগলের আমেরিকায় একটি নিজস্ব হেডকোয়াটার রয়েছে। প্রথমে গুগল শুধু মাত্র সার্চ ইঞ্জিণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে আমরা গুগল ম্যাপস, জিমেইল বা গুগল ইমেইল, গুগল টান্সলেইট, গুগল ড্রাইভ, গুগল ক্রোম, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল প্লাস এবং ভিডিও শেয়ারিং ওয়েব সাইট ইউটিউব সহ এ জাতীয় অনেক কিছুর সুবিধা উপভোগ করতে পারছি। এবার তাহলে চলুন আমরা গুগল সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে যা হয়তো আপনাদের অজানা রয়েছে।

যেমন: গুগলে যখন কোনো বিষয় সার্চ দেওয়া হয়, তখন আমরা খুব দ্রুত ফল দেখতে পাই। কিন্তু মজার বিষয় এই ফল দেখানোর আগে গুগল কমপক্ষে ২০০টি বিষয় বিবেচনা করে, তবেই তা প্রদর্শন করে।  গুগল ও গুগলের নামের আশপাশে থাকা অনেক ডোমেইন কিনে রেখেছে গুগল। গুগল লিখতে ভুল হলেও যে ডোমেইন নামগুলো পাওয়া যায়, তারও মালিক গুগল। যেমন গুওগল ডটকম, গগল ডটকম, গুগলার ডটকম প্রভৃতি। গুগল এমনকি ৪৬৬৪৫৩ ডোমেইনটিও নিয়ে রেখেছে। গুগলে প্রতি সেকেন্ডে ২০ লাখেরও বেশি সার্চ হয়। বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম এমন কিছু ‘আজব’ প্রকল্প নিয়ে মাঠে নামে গুগল। যেমন গুগলের ‘লুন’ নামের একটি প্রকল্প। ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বেলুনের সাহায্যে ইন্টারনেট সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প। এ ছাড়া ক্ষুদ্রজনগোষ্ঠীর কাজে লাগে এমন প্রকল্প নিয়েও কাজ করতে দেখা যায় গুগলকে। যেমন ২০১২ সালে জি-মেইলে শেরকি ভাষা সুবিধা যুক্ত করে গুগল। ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন মিলে ১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে প্রথম ডুডল তৈরি করেন। ‘তাঁরা অফিসের বাইরে আছেন এবং এ সময় কারিগরি কোনো ত্রুটির সমাধান করা যাবে না’—এই বার্তা ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রথম ডুডলটি তৈরি হয়। গুগলের সার্চ ইনডেক্সের আকার ১০ কোটি গিগাবাইটেরও বেশি। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে এই তথ্য জমা রাখতে চান, তবে তাঁর এক টেরাবাইট আকারের এক লাখ হার্ডড্রাইভের দরকার হবে। গুগল একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে তার সার্চপেজে যত দ্রুত সম্ভব ফল প্রদর্শন করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে কম সময় ধরে রাখতে চায়। স্ট্রিট ভিউ ম্যাপের জন্য গুগল এখন পর্যন্ত ৫০ লাখ মাইল রাস্তার ছবি তুলেছে। গুগলের ভিডিও সেবা ইউটিউবে প্রতি মাসে ৬০০ কোটি ঘণ্টারও বেশি ভিডিও দেখা হয়। অর্থাত্ যা বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের মাসে এক ঘণ্টা করে ভিডিও দেখার মতো। প্রথমদিকে প্রতি সেকেন্ডে ৩০-৫০টি পেজ প্রসেস করতে পারত গুগল। বর্তমানে সেকেন্ডে কয়েক মিলিয়ন পেজ প্রসেস করতে পারে এই সার্চ ইঞ্জিন। প্রতিষ্ঠার শুরুতে মাত্র ৪০ গিগাবাইট স্টোরেজ ব্যবহার করত গুগল। আর এখন এর ইনডেক্সে ১০০ মিলিয়ন গিগাবাইটের বেশি ডেটা রয়েছে। গুগলের হোমপেজ প্রথম থেকেই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন; এতে খুব বেশি সেকশন/কনটেন্ট দেয়া হয়নি। প্রথম দিকে সাইটটির প্রতিষ্ঠাতারা মূলত এইচটিএমএল কোডিংয়ে অতটা দক্ষ না থাকায় তারা একে সাধারণভাবে রেখে দেন। পরবর্তীতে গুগল প্রসার লাভ করার পরেও এই পরিচ্ছন্ন চেহারাই রেখে দেয়া হয়।

এরকমই গুগল সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জেনে নেই আসুন:

ব্যাকরাব!

আপনি জানেন কি? গুগল নির্মাণের সময় এর নাম Backrub রাখা হয়েছিল! কারণ প্রতিষ্ঠাতারা কোনো ওয়েবসাইটের ব্যাক সাইটকে বিশ্লেষণ করে গুগলে সেটার গুরুর্ত্বতা যাচাই করার জন্য প্রথমে মুলত এই গুগল সুবিধাটি নির্মাণ করেন। এই ব্যাকরাপ নামে প্রায় ১ বছর চলার পর তারা গুগল কে নতুন নাম হিসেবে নির্বাচন করেন।

GOOGOL!

গুগল বা google নামটি ম্যাথমেটিক্যাল টার্ম googol থেকে নেওয়া হয়েছে। ল্যারি পেইজ এবং সের্গেই ব্রিন গুগলে জন্য নতুন নাম খোঁজার জন্য বিভিন্ন আইডিয়া ঘাঁটতে ঘাঁটতে তারা ম্যাথমেটিক্যাল টার্ম googol থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে যান। googol হচ্ছে ১ এবং এর পরে ১০০ টি ০ দিয়ে তৈরি একটি টার্ম। googol থেকে তারা সরাসরি google য়ে পৌছাতে পারেন নি। তারা প্রথমে googol থেকে googol-plex শব্দটি বেছে নেন কিন্তু পরে gogol নাম হবে বলে সিদ্ধান্ত নেন। তবে gogol নামের ডোমেইনটি তখন অলরেডি বিক্রি হয়ে গেছে বিধায় তারা উচ্চরণে একই শব্দ google কে বেছে নেন সাইটের নাম হিসেবে।

Im Feeling Lucky!

গুগলের সাইটে যাবার পর আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে তাদের সাইটে সব সময়ই একটি Im feeling lucky! নামের একটি বাটন থেকে থাকে। আর এর ফিচারের জন্য গুগলকে প্রতি বছর ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে হত। কিন্তু বর্তমানে এই ফিচারকে সার্চ বক্সেই নিয়ে এসেছে গুগল। এবার আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে গুগল সার্চ বক্সে কোনো কিছু টাইপ করলেই এর পরের সম্ভাব্য শব্দ গুগল আপনার জন্য সাজেস্ট করবে! এটাই im feeling lucky ফিচারের নতুন সংষ্করণ!

ডিক্টশনারিতে গুগল!

২০০৬ সালে অক্সফোর্ড ইংরেজি ডিক্টশনারিতে গুগল (google) শব্দটি যুক্ত করে দেয় কিন্তু এই বিষয়ে গুগলের ফাউন্ডাররা খুশি ছিলেন না। কারণ গুগল নামের মধ্যেই ইংরেজি মিসস্পেলিং রয়েছে। এছাড়াও গুগল শব্দটি ডিক্টশনারিতে এসে গেলে সবাই এই শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করবে এবং তাদের কোম্পানির ভ্যালু কমে যাবে। যেটা পরবর্তীতে ভূল বলে প্রমাণিত হয়েছিল।

মোস্ট ভ্যালুয়েবল ব্রান্ড!

২০১৭ সালে গুগল জনপ্রিয় টেক জায়ান্ট অ্যাপেলকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভ্যালুযুক্ত ব্রান্ড হিসেবে নিজেকে স্থান করে নিয়েছে! ২০১১ সাল থেকে অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে ভ্যালুযুক্ত ব্রান্ড হিসেবে নিজের স্থানকে ধরে রেখেছিল কিন্তু গুগল সেটাকে নিজের করে নিয়ে নেয় চলতি বছরে।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*