কিভাবে মেয়েরা প্রেমে পড়ে? মেয়েদের নানা ধরনের ভালবাসার গল্প বা প্রেমের ছন্দ!


কিভাবে মেয়েরা প্রেমে পড়ে ? এটা একটা অনেক দামী প্রশ্ন। কারন সব ছেলেরাই জানতে চায়, কিভাবে মেয়েরা প্রেমে পড়ে! অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা নিজেরাও বলতে পারেন না কিভাবে তিনি প্রেমে পড়েছেন। এমনই ব্যাপার স্যাপার। প্রেম অনেক বেশি এলোমেলো আর গতানুগতিক নীয়মের বাইরে। প্রেমের ছন্দ আছে। প্রেম কিংবা প্রেমের কবিতা এত বেশি হতো না যদি সত্যিই মেয়েদের ভালবাসার ছন্দ বা ভালবাসার গল্প আগে থেকেই সেট করে নেয়া যেত। অনেক বেশি রহস্যে ঘেরা ভালবাসার গল্প কিংবা প্রেমের ছন্দ। আসুন দেখা যাক কিভাবে মেয়েরা প্রেমে পড়েন সে নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।

অনেকেই হয়ত পড়েছেন- কিভাবে প্রেম করবেন, কেন করবেন আর কেন করবেন না?

মেয়েদের ভালবাসার ছন্দ শুরু হয় অনেক আগে থেকেই, মেয়েরা প্রেমে পড়ে

অধিকাংশ মেয়ে হয়ত আমার সাথে একমত হতে পারেন যে মেয়েরা প্রেম ব্যপারটি বুঝতে পারে অনেক আগে থেকেই। তার কিছু ন্যাচারাল কারনও আছে। তারপরেও আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে জানতে একসময় ঠিকই বুঝতে পারেন কী এই প্রেম? কেন প্রেমের চিঠি কিংবা প্রস্তাব আসে। বাস্তব সত্যি কথা হচ্ছে, মেয়েদের কাছে খুব অল্প বয়সেই প্রেমের চিঠি চলে আসে। প্রেমের কবিতা, রঙ মেখে ছেলেরা, বুড়োরা কিংবা পাড়ার অনেক মানুষ যখন নানা ইংগিতে প্রেমের কথা বলে, তখন আর বুঝতে বাকী থাকে না কী এই প্রেম। কেন করতে হয়। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, সারা বিশ্বে মেয়েরা মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই প্রেম বা এ জাতীয় প্রস্তাব পান। কখনো জোর প্রস্তাবও আসে।

তাই মেয়েরা প্রেম বুঝে ফেলেন অনেক আগেই। কিছু কিছু অতি আগ্রহী হয়ে নিজেই নিজের প্রেমিকা খুঁজতে শুরু করেন। এই ছোট বেলাতে প্রায় অনেক মেয়েরা প্রেমে পড়ে। এসব প্রেমের ফল বেশি ভাল হয় না। পূর্নতা পায় না।

কলেজের শুরু বা হাইস্কুল এর শেষের দিকে প্রেম

কলেজে যাওয়ার শুরুতেই মেয়েদের একটা নতুন পরিবেশ গায়ে লাগে। সাথে লাগে নতুন কিছু চোখের চাউনি। এখানে হাজারো ছেলে বুড়োর চোখ গিয়ে পড়ে নতুন আসা মুখ গুলোর দিকে। অনায়াসে কাবু হয়ে যেতে হয় নানান রকম ভালবাসার রোমান্টিক এসএমএস এর কবলে পড়ে। খেতে না পারা, বিস্রাম নিতে না পারা আর রাস্তায় নানান ধরনের অত্যাচার তো আছেই। অনেক মেয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। অনেকেই মেনে নেয়। অনেকেই খুঁজে পায় নিজের মনের মত সংগী। এই সময়টা এত বেশি খারাপ যে নিজের একজন কাছের মানুষ সবারই দরকার হয়। মেয়েদের মন আরো বেশি আবেগ প্রবন। তাই নতুন ভংগীতে যে সুন্দর উপস্থাপন করে তার সাথেই প্রেম হয়ে যেতে পারে। ভালবাসার গল্প অনেক আছে এমন। প্রেমের চিঠি আসতো অনেক আগে। এখন সেটা প্রেমের কবিতা হয়ে দেয়ালে ছাপা হয়। চিরকুটে লিখে ছুঁড়ে মারা হয় না আগের মত। মোবাইলে এসএমএস হয়ে চলে আসে। ভালবাসার রোমান্টিক এসএমএস।

প্রেম শুরু হয় কিভাবে?

হাসতে হাসতেই প্রেম শুরু হয়। শুরু হওয়া প্রেম আবার থেমেও যায়। তবে প্রেমের শুরুটা যেভাবেই হোক টিকে থাকার জন্য মেয়েদের অনেক চেষ্টা থাকে। ছেলেদের প্রেম হয় দ্বায়িত্বহীন স্বভাবের। ভাল লাগল তারপর প্রেমের অফার, কিছুদিন প্রেম হলো। ব্যাস, তার আর ভাল লাগে না। এভাবেই নানা সমস্যা জালে মেয়েদের আবেগ আবার কখনো মেয়েরা ছেলেদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এ খেলা প্রেমের শুরু থেকেই হতে পারে।

সাধারন নীয়মে, একটা ছেলে একটা মেয়ের পেছনে প্রায় প্রতিদিনই কিছু সময় ব্যয় করে শেষে হয়ত মাসের মধ্যে নতুবা বছর শেষে তার মন জয় করে। প্রেম শুরু করে।

আবার এর বাইরের নীয়মে, নানা কারনে প্রথম এক দুই প্রস্তাবেও প্রেম হয়ে যায়। প্রেম শুরু হওয়া এতটাই সিম্পল বা সাধারন।

জরুরী প্রেম প্রস্তাব যারা করেন তারাই আবার জরুরী ব্রেকআপ শুরু করেন। তাই প্রেম কোনভাবেই জরুরী কিছু হতে পারে না।

 

একটি প্রেম গল্প

তের বছরের নীলুফা তখনো বুঝতেই পারে নি কেউ তাকে ফলো করছে। ফলো করা চলছিলো অনেক দিন। যখন একদিন তাকে জানানো হলো তার প্রায় বছর ছয়েক আগে থেকে জহির উদ্দিন নামক একজন বয়সে অনেক বড় ব্যক্তি তাকে ফলো করছিলেন। সেদিনই প্রেমের প্রস্তাব করা হলো। তখন উনিশ বছরের নীলুফা এই প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন। তিনি সময় না নিয়ে হ্যাঁ করে দিলেন। একটি লোক ছ’বছর ধরে তাকে ফলো করছে। তার খেয়াল রাখছে। সে তো সারা জীবন খেয়াল রাখতে পারবে। এই ছিলো ভরসা।

উনিশ বছরে অনেক কিছুই বুঝতে পারা যায়। মেয়েদের জন্য উনিশ বছর আর ছেলেদের জন্য সেটা প্রায় ২৫ কি ত্রিশ বছর। অভিজ্ঞতা আর ধারনা এরকম বুঝদার বানায়। মেয়েদের সাথে ঘটে চলা নানান ঘটনা ছেলেদের থেকে অনেক বেশি হয়।

বেশিদিন প্রেম করতে হয় নি তাদের। জহির তাকে বিয়ের প্রস্তাব করে। পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়। প্রথমেই চলে খুব সুন্দর সংসার জীবন। জহিরের আছে ভাল চাকুরী। নীলুফার আছে আন্তরিকতা। সংসার আর স্বামী নিয়ে নীলুফার সুখ ছিলো অনেক বেশি।

কিন্তু বলে না? সব কিছু বেশিদিন গেলেও সুখ যায় না। চায়না  প্রোডাক্টের মত এর স্থায়িত্ব। অনেক দিন স্থায়ী হয়ে যেতে পারে আবার এক সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ। নীলুফার বেলায় খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। জহির আরো একটি বিয়ে করে হাওয়া হয়ে গিয়েছেন। চিঠি লিখে গেছেন, আমাকে খুঁজবে না। আমি আসলে তোমার মধ্যে আমার সুখ পাই নি। আমার প্রকৃত সুখ আমি পেয়েছি হেমা’র কাছে। ও অনেক ভাল গান গায়। কবিতা পড়ে শোনায় ইত্যাদি ইত্যাদি।

নীলুফার প্রেম হার মানতে রাজি হলো না। সে আর কখনোই বিয়ে না করে বাকী জীবন কাটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল। ভালবাসা যায় একজনকেই। সব মানুষকে ভালবাসা যায় না। প্রেম সবাইকে করা যায় না। মমত্ব কিংবা সাহায্য অথবা পাশে গিয়ে দাঁড়ানোটা সবার সাথেই করা যায়। তাই বলে এক সাথে থাকা যায় না। পরিবার বাঁধা যায় না। সংসার এমনই হয়।

অনেক দিন কেটে গিয়েছিলো, নীলুফা একা একা বাঁচতে শুরু করা জীবন বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছিলো। সে আশা বেঁধে মনে মনে শুধু জীবিকার জন্য যা দরকার তা ই করছিলো। ভেঙ্গে পড়ে নি বলা যায় না। কিছুটা মন তার ভেংগেছে। সে একা চলতে গিয়েও অনেক বাধা পেয়েছে। চারদিকের হাজারো আতংক তাকে দেখিয়েছে ইশারা। সে তো মেয়ে, মেয়েরা প্রেমে পড়ে যেমন সহজে তেমন সহজ তো ছিলো না তার জীবন। তাই বাইরের আর কোন কিছুই তাকে কব্জা করতে পারে নি।

 

মেয়েরা প্রেমে পড়ে, কখনো পড়তে বাধ্য হয়। তাই বলে মেয়েদের এই প্রেম মূল্যায়ন করতে না পারা ছেলেদের কারো কারো ব্যর্থতা ছাড়া আর কী ই বা হতে পারে?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*