কিভাবে ধৈর্য্যশীল হবেন? ধৈর্য্যশীল মানুষের বৈশিষ্ট্য সমূহ


ধৈর্য্য মহৎ গুন। ধৈর্য্যশীল ব্যক্তি তার চার পাশের সবার থেকে আলাদা হয়। তাই কেউ নিজেকে ধৈর্য্যশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে তাকে অনেক বেশি অনুশীলন করতে হয়। ধৈর্য্যশীল হওয়া আর সাধক হওয়া অনেকটা কাছাকাছি। সব সাধকেরই প্রচুর ধৈর্য্য থাকে। কিভাবে ধৈর্য্যশীল হবেন তা নিয়ে সামান্য আলোচনা করার চেষ্টায় আছি।

যে কোন বিষয়ে অনেক সময় পর্যন্ত প্রতিক্ষার প্রহর যিনি গুনতে পারেন, অনেক অবহেলা যিনি সইতে পারেন, শত কষ্টে কিংবা বিপদের সময়েও যিনি বিচলিত নন তিনিই ধৈর্য্যশীল। এত সহজ যে নয় তা বোঝা গেল? তবে খুব বেশী ধৈর্য্যশীল হবার দরকার এই মূহুর্তে নেই। শুরু করার জন্য ছোটখাট বিষয়ের বা পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া যাক।

তিরষ্কার শুনতে প্রস্তুত থাকা- ধৈর্য্যশীল মানুষের প্রথম গুন

সামাজিক শ্রেনী বিশেষে আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষেই অন্যকে তিরষ্কার করতে পছন্দ করেন। তারা মজা পেয়ে বার বার একই কাজ করেন। বেশি মজা পায় তখনই যখন ঐ ব্যক্তি ক্ষেপে যায়। এজন্য এক্ষেত্রে ধৈর্য্য অনেক বেশি সহায়ক। অনেকেই বুঝে না বুঝে কথা বলে তিরষ্কারের চেষ্টা করেন। সেসব ক্ষেত্রে ধৈর্য্যের বাঁধ টিকিয়ে রাখা দ্বায় হয়ে যায়। তাই তিরষ্কার শুনতে প্রস্তুত থাকুন। খেই হারিয়ে বিতন্ডায় জড়ানো চলে না।

প্রতিটি কথায় উত্তর না দিয়ে অপেক্ষা করা, পুরো বক্তব্য শোনা

কথায় কথায় উত্তর না দিয়ে পুরো কথা শুনতে পারা হচ্ছে ধৈর্য্যশীলের কাজ। যার সাথে কথা বলছেন তার বক্তব্য শুনুন। কথায় কথায় উত্তর দিয়ে ঝামেলা এবং সময় নষ্ট করার চেয়ে ধৈর্য্যশীল হয়ে পুরো বক্তব্য শুনুন। ধৈর্য্যশীল হবার পরিচয় দিন। অনেকেই পুরনো অভ্যাসের কারনে কারো কথা শেষ হবার আগেই কথা শুরু করেন। এজন্য অনেক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। তাই কথা বলার আগে কথা শুনুন।

সব পরিস্থিতিতে চিন্তা করতে শিখুন, চিন্তা করার জন্য সময় নিন

ধৈর্য্যশীল মানুষের চিন্তা সুন্দর হয়, সময় গৌন ভূমিকা পায়

পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন আপনাকে সুস্থ্য মাথায় চিন্তা করতে হবে। উপায় বের করতে হবে। খারাপ পরিস্থিতি কেন হলো, কিভাবে হলো একবার চিন্তা করলেও আপনার মনে নতুন উপায় আসতে পারে। বেরিয়ে আসার পথ খুঁজুন। পরিস্থিতি যত বেশি খারাপ তত দ্রুত ভাবতে থাকুন। চার পাশের দিকে মনোযোগ দিলে কিছু একটা উপায় মাথায় আসতে পারে। নিজের জন্য ভাবুন, পরিস্থিতিতে কারো ক্ষতি যেন না হয় তার দিকে ভাবুন। মনে সাহস আর সততার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। সততার পরিচয় দিতে পারলে নিজেই নিজের জন্য বাহবা দিতে পারবেন।

অস্থিরতা পরিহার করুন, ধৈর্য্যশীল মানুষ হবার চেষ্টা করুন

অস্থিরতা হচ্ছে অধৈর্য্যতার অন্যতম কারন। এর জন্য মানুষের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনেকাংশে দ্বায়ী। একে রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। তারপরেও ধৈর্য্যশীল ব্যক্তিগন একে জয় করেছেন। অস্থিরতা পরিহার করেছেন। এজন্য মেডিটেশন করা যেতে পারে। মেডিটেশন নিয়মিত করলে অস্থিরতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ধৈর্য্যশীল হবার উপায় অনেক। যেমন রাগ নিয়ন্ত্রন, খিটমিটে না হওয়া, নিজের প্রতি আস্থাশীল হওয়া। এছাড়াও অনুশীলন করতে হয় অনেক বেশী। এখানে অল্প কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। নিজেকে নিয়ে যদি যাচাইবাছাই করা যায় তবে ব্যক্তি বিশেষে আরো অনেক বিষয় উঠে আসবে। সেসব নিয়ে নিজে নিজে চর্চা করলে অনেক বেশি ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।

আপনার নিজের ধৈর্য্য সম্পর্কে আমাকে জানাতে পারেন। কমেন্ট বক্সে কিংবা আমার ইনবক্সে লিখতে পারেন। আমি আপনার সাথে পর্যালোচনা করব।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*