কিভাবে অভ্যাস পরিবর্তন করবেন? জেনে নিন কিছু কাজ অভ্যাসে পরিনত করার পদ্ধতি!


অভ্যাস কী জিনিস তা বুঝাতে হয় না। তবু বলছি, আমরা যে কাজগুলো বারবার করি  অর্থাৎ রিপিটেড কাজগুলিরই আরেক নাম হচ্ছে অভ্যাস। ঘুমানো, খাওয়া, দাঁত ব্রাশ করা এসব প্রাত্যহিক অভ্যাসের অন্তর্গত। অভ্যাস খুবই শক্তিশালী ব্যাপার। এর মাধ্যমে আপনার ইন্দ্রিয়কে রোবটিক প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা সম্ভব।  কিভাবে অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে আপনার নিজেকে উন্নত করতে পারবেন সে বিষয়ে আলোচনা করব। অভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার হয়। যদি কোন অভ্যাস আপনার জীবনকে বিষিয়ে তোলে তবে সেটাই বদ অভ্যাস কিংবা খারাপ অভ্যাস। সেই খারাপ অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরী। অভ্যাস কয়েক প্রকারের হয়- ভালো অভ্যাস, খারাপ অভ্যাস বা বদ অভ্যাস, অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস যেমন দাঁত দিয়ে নখ কাটা ইত্যাদি।

বিশ্বে যত মানুষ মহান ব্যক্তিত্ব হয়েছেন তাদের সবার “মহান” হবার প্রথম কারন ছিলো ভালো অভ্যাস। তাহলে আপনার অভ্যাস কেন এক রকম হয়ে পড়ে থাকবে? বদলে ফেলুন। এটা তো কোন গাছ নয় যে তুলে ফেলা যাবে না?

 

কোন কোন অভ্যাস পরিবর্তন করবেন?

অভ্যাস পরিবর্তন সম্পর্কে এতক্ষনে আপনি একটা ধারনা পেয়েছেন। এবার আসুন জানার চেষ্টা করি কোন কোন অভ্যাস আপনি পরিবর্তন করবেন?  একটি জীবনে অনেক অভ্যাস থাকে। উদাহরন হিসেবে বলছি- ১) পড়ার অভ্যাস, ২)গান শোনার অভ্যাস ৩) টিভি দেখার অভ্যাস ৪) সিনেমা দেখার অভ্যাস ৫) ধুম পানের অভ্যাস ৬) নেশা দ্রব্যের অভ্যাস ৭) ঘুমানোর অভ্যাস ৮)খেলার অভ্যাস ৯)মারামারি করার অভ্যাস ১০) চুরির অভ্যাস ইত্যাদি।

অভ্যাস কত রকমের হতে পারে তার বর্ননা এখানে মাত্র ৬০০ শব্দের মধ্যে লিখে শেষ হবে না। তবে আসল কথা হচ্ছে অভ্যাস এর কোন শেষ নেই। মানুষের সব কাজই অভ্যাসের দ্বারা করা হয়। খুন করা বা অপরাধ করাও কোন না কোন অভ্যাসের ফসল।

এজন্যই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন কোন অভ্যাস আপনি বদলাবেন। যে কোন অভ্যাসই বদলে ফেলা সম্ভব। অভ্যাস পরিবর্তনশীল। অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠোর পরিশ্রম আর ইচ্ছার ব্যাপার মাত্র। তারপরেও আপনার সবার আগে নির্বাচন করা দরকার কোন কোন অভ্যাস আপনি পরিবর্তন করবেন?

নির্বাচন প্রক্রিয়াঃ আমি জানি, যেভাবে বলছি অভ্যাস নির্বাচন করুন সেটা অনেকেই করতে পারবেন না। কারন অনেকেই জানেন না তিনি প্রতিদিন যা কিছু করছেন তা আসলে কোন অভ্যাসের ফলে ঘটছে। এজন্য একটি সাধারন প্রক্রিয়া আপনাদের হয়ত আরো পরিষ্কার করে বুঝতে সাহায্য করবে। এরজন্য খাতা কলম নিয়ে বসুন। ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে আবার ঘুমুতে যাওয়া সহ যা কিছু আপনি করেন তার একটি তালিকা তৈরী করুন। তালিকাটি এমন হতে পারে-

কাজের গুরুত্ব সময় (দিনের নির্দিষ্ট সময়) কাজের  বিবরণ কত সময় লাগে
আবশ্যক ৬ টা ১০ দাঁত ব্রাশ করা ১০মিনিট
 আবশ্যক ৬ টা ১৫ দুই গ্লাস পানি পান করা ৫ মিনিট
আবশ্যক নয় ৬ টা ২০  ব্যায়াম করা ৩০ মিনিট
আবশ্যক ৬ টা ৫০ নাস্তা করা ২০ মিনিট

আমি শুধু উদাহরন হিসেবে লিখলাম, আপনারা আসল কাজগুলোই গুরুত্ব অনুসারে সাজাবেন।তারপর সেখান থেকে কোন কাজটি আপনার জন্য সঠিক ভুমিকা নিতে পারছে না তাকে সরিয়ে দিবেন নাকি আরো জোরালো করবেন সিদ্ধান্ত নিন। অর্থাৎ কোন অভ্যাসটিকে আপনি বদলাতে চাচ্ছেন তা এই তালিকা থেকে নিতে পারবেন সহজেই। আরো একটা কথা। আপনি যখন তালিকার মধ্যে দিয়ে চলবেন তখন আপনার প্রোডাক্টিভিটি অর্থাৎ দক্ষতা বেড়ে যাবে।

কিভাবে অভ্যাস পরিবর্তন করা যায়?

অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় বটে তবে অত সহজ নয়। ধরুন যিনি সিগারেট এ অভ্যস্ত তাঁকে আপনি একদিনে সিগারেট ছাড়াতে পারবেন? না, অনেক দিন লেগে যাবে। আমি সাধারন একটা অভ্যাস গত ৬মাস ধরে রপ্ত করেছি। আর তা হলো আউটলুকে ইমেইল অর্গানাইজ করা। তো ভাবলাম যেভাবে এখন আমি ইমেইল পড়ি আর সংরক্ষন করি তাতে আমার একটা সুবিধে হয়। কোন ইমেইল পড়া থেকে বাদ পড়ে না। আর যদি কম গুরুত্বে বড় ইমেইল থাকে তো আমি সেটা আলাদা একটা ফোল্ডারে রেখে দেই। মূল ব্যাপার হচ্ছে আমি কুইক স্টেপ্স(Quick Steps)অপশন ব্যবহার করি। ৬মাস ধরে অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। প্রথমে যখন শুরু করেছি তখন ভুল হয়ে যেত, একেকটা ভুলে একেক ফোল্ডারে চলে যেত। যখন অভ্যাস হয়ে গেল। তখন একবার আমাদের অফিসের ইমেইল নতুন করে সেটাপ করা হয়েছিলো। এটা কয়েকদিন আগের কথা। আবারো আমার ইমেইল পড়ায় বিঘ্ন ঘটল। এবার ঘটেছে সদ্য অভ্যাসে পরিনত হয়ে যাওয়া কাজের সঠিক প্রয়োগ না করতে পেরে। বাধ্য হয়ে আবারো কুইক স্টেপ্স(Quick Steps)অপশন ব্যবহার শুরু করি। এর মানে হচ্ছে আমার ইমেইল পড়ার সিষ্টেম এখন আর এই অভ্যাস থেকে বের করা খুব সহজ নয়।

এই ঘটনা বলার কারন হচ্ছে মাত্র ৬ মাসে একটা অভ্যাস এতটা ই পাকা হয়ে যায় যা আপনার কাজের গতির উপর নিয়ন্ত্রন বসায়।

অভ্যাস পরিবর্তন এর ধাপ সমূহ আলোচনা করা যাক

ধাপ ১ শুরু করুনঃ কিভাবে কী পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন? আপনি হাঁটার অভ্যাস পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন? তাহলে কিভাবে হাঁটতে চান তার একটা খসড়া নির্ধারন করে শুরু করুন। এক সময় সেই হাঁটার অভ্যাস আপনি আয়ত্ব করে ফেলতে পারবেন। আমি এক সময় বাংলা লিখতেই পারতাম না কী বোর্ডে। যখন শুরু করেছিলাম তখন আমার হাতের লেখার গতি আর এখন হাতের লেখার গতি একই আছে। শুধু বদলেছে আমার কী বোর্ডে বাংলা লেখার গতি। হাতে লেখার চেয়েও ১.২৫ গুন বেশি। অবাক করা ব্যাপার না?

শুরু করার সময় কোন কিছুই আপনার কাংখ্যিত মানের হবে না। তাই বলে শুরু করা থেকে দূরে পরে থাকবেন না।

ধাপ ২ পর্যালোচনা করুনঃ যে কোন কাজের মধ্যেই পর্যালোচনা করা উচিৎ। যে একটি তালিকা করে আপনি অভ্যাস বদলানোর জন্য বিষয় বা কাজ নির্বাচন করেছেন সে রকম একটা তালিকা করে ফেলতে পারেন। এখানে থাকবে বর্তমান অভ্যাস যা পরিবর্তন করা হচ্ছে তার উন্নতি, এর ফলে অন্যান্য কাজের সুবিধা কিংবা অন্য কোন কাজে ক্ষতি হচ্ছে কি না। এসব পর্যালোচনা করা উচিৎ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার।

ধাপ ৩ গ্রহন করাঃ  যদি কোন ক্ষতিকর দিক সামনে না আসে, তবে তা জীবনের জন্য ভাল ভেবে গ্রহন করা উচিৎ। কোন অভ্যাস যদি আপনার শারিরীক বা মানসিক সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তাকে আবার বদলে ফেলুন। জীবনের জন্য হুমকি কেন রাখবেন?

অভ্যাস পরিবর্তন করার আগে ও পরে নিজের পরিবর্তন দেখুন। যদি পরিবর্তন খুবই প্রসংসনীয় হয় তবে তো কথাই নেই। যদি আপনি সমাজের বা পরিবারের চোখের বিষ হয়ে যান তবে আবার অভ্যাস পরিবর্তন করুন। 

 

অভ্যাস পরিবর্তন করা একান্তই নিজের ব্যাপার। আপনি নিজেকে কী হিসেবে দেখতে চান তার নির্ভর করে অভ্যাসের উপর। অভ্যাস আপনাকে অনেক কিছুই দেয়, জীবনে উন্নতি, শান্তি কিংবা জনপ্রিয়তা ইত্যাদি। তাই রুচি অনুযায়ী আপনিও আপনার অভ্যাস বদলে ফেলুন।  আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনি পড়তে পারেন The Power Of Habits.

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*