কলকাতার বুকে গুয়াতেমালা, মায়া সভ্যতা ও নৈসর্গিক শোভার এক অপরূপ দেশ

মধ্য আমেরিকার কেন্দ্রীয় দেশ হচ্ছে গুয়াতেমালা। এই দেশের উত্তর ও পশ্চিম দিকে আছে মেক্সিকো। দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে প্রশান্ত মহাসাগর। উত্তর-পূর্বে রয়েছে বেলিজে। পূর্বে রয়েছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং হান্ডুরাস। আর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে এল সালভাদোর। অপরূপ প্রাকৃতিরক শোভায় শোভিত গুয়াতেমালার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মায়া সভ্যতার নাম। কারণ, ৮০০ খীষ্ট্রপূর্বার্দে এই গুয়াতেমালা ছিল মায়া সভ্যতার পীঠস্থান। আজও গুয়াতেমালার জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে মায়া সভ্যতার সব চিহ্ন। বলতে গেলে পরতে পরতে মায়া সভ্যতার ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে গুয়াতেমালাকে।

সেই গুয়াতেমালা এখনও ভারতের আরও কাছাকাছি এল। কারণ, ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্বন্ধকে এবার সরাসরি বাঁধতে উদ্যোগী হয়েছে গুয়াতেমালা সরকার। আর সেই কারণে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সে দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে গুয়াতেমালা।

কলকাতার বুকে গুয়াতেমালা

কলকাতার বুকে গুয়াতেমালা

বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাতে কলকাতার বুকেই এক অনুষ্ঠান করল গুয়াতেমালা সরকার। যার উদ্যোক্ততা ছিল অ্যাসোচ্যাম। গুয়াতেমালা সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন এদেশে নিযুক্ত সে দেশের রাষ্ট্রদূত জিওভানি রেনে কাস্টিল্লো পোলাঙ্কো। তিনি তাঁর দেশের পক্ষ থেকে কলকাতার বাণিজ্যিক মহলকে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান।

লাতিন আমেরিকার এক ঐতিহ্যশালী দেশ গুয়াতেমালা

 

লাতিন আমেরিকার এক ঐতিহ্যশালী দেশ গুয়াতেমালা

মায়া সভ্যতার অবলুপ্তির দীর্ঘ কয়েক শতকপরে গুয়াতেমালাকে দখল করেছিল স্প্যানিশরা। ষোল শতকে স্প্যানিশরা তাঁদের উপনিবেশ হিসাবে গুয়াতেমালাকে পরিণত করেছিল। স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর গুয়াতেমালার বর্তমান নাম রিপাবলিক অফ গুয়াতেমালা। এছাড়াও ‘গাছেদের দেশ’ বলেও অনেকে গুয়াতেমালাকে ডেকে থাকেন।

তিকাল পেটেন

 

তিকাল পেটেন

গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালার সিটি থেকে এর দূরত্ব ৫৮৮ কিলোমিটার। তিকাল পেটেল আসলে মায়া সভ্যতার এক জ্বলন্ত নির্দশন। যার স্থাপত্য এবং গাত্রে থাকা বিভিন্ন নকসা মায়া সভ্যতার এক ইতিহাসের দিকেই ইসারা করে। একদম গহন জঙ্গলের মধ্যে এই তিকাল পেটেন। বলা হয় এখানে নাকি আজও লুকিয়ে আছে মায়া সভ্যতার অজানা নানা রহস্য।

অ্যান্টিগুয়া গুয়াতেমালা

 

অ্যান্টিগুয়া গুয়াতেমালা

এক অপরূপ প্রাকৃতিক শোভায় মণ্ডিত গুয়াতেমালার ছবি। এই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঔপনিবেশিক ইতিহাস। অ্য়ান্টিগুয়া গুয়াতেমালাকে ঘিরে রয়েছে একাধিক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। এই স্থানটি একটি ভ্যালির উপরে। গুয়াতেমালা সিটি থেকে এই স্থানের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। গুয়াতেমালার পর্যটনে এই স্থানটি যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ।

গুয়াতেমালায় কী ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা

 

গুয়াতেমালায় কী ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা

গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত জিওভানি রেনে কাস্টিল্লো পোলাঙ্কোর দাবি, এক্সপোর্ট থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুলে গিয়েছে। একটা সময় গৃহযুদ্ধে দীর্ণ হয়েছিল গুয়াতেমালা। কিন্তু, সে সব এখন অতীত। নতুন আর্থিক বুনিয়াদের লক্ষ্যে এগোতে চাইছে সে দেশের সরকার। তাই মুক্ত অর্থনীতির জন্য দরজা খুলে দিতে গুয়াতেমালা সরকার সচেষ্ট হয়েছে বলেও জানান জিওভানি।

অ্যাটিটলান লেক

 

অ্যাটিটলান লেক

বিশ্বের অন্যতন এক সুন্দর সরোবর এই অ্যাটিটলান লেক। প্রাকৃতিক শোভার ঋদ্ধ এই সরোবরকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি আগ্নেগিরি। বহু পর্যটক আবার এই তিন আগ্নেয়গিরিতে ট্রেকিং-ও করেন। গুয়াতেমালার বাসিন্দারা বলেন, এই সরোবরেই মায়া সভ্যতা ও ক্যাথলিক খীষ্ট্র ধর্ম একে অপরের হাত ধরাধরি করেছে। গুয়াতেমালা সিটি থেকে এই স্থানের দূরত্ব ১৪৪ কিলোমিটার।

পাচায়া আগ্নেয়গিরি

 

পাচায়া আগ্নেয়গিরি

বিশ্বের অন্যতম এক পরিচিত আগ্নেয়গিরি এই পাচায়া। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু পর্যটক শুধু আসেন এই পাচায়া আগ্নেয়গিরিতে ট্রেকিং-এর জন্য। বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটি এই পাচায়া। একদম জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এটি। কিন্তু, এর ট্রেকিং রুট এতটাই অসাধারণ যে পর্যটকরা তার হাতছানিকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে গনগনে লাভার স্রোত আর তাকে পাশ কাটিয়ে উঠে যাচ্ছে পর্যটকরা। এ এক পরিচিত ছবি।

সেমাক চ্যাম্পে

 

সেমাক চ্যাম্পে

প্রকৃতির সৃষ্টি কেমন অবাক করা হতে পারে তার যেন নিদর্শন এই সেমাক চ্যাম্পে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া কাহাবন রিভারএর উপরে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক সাঁকো। এর এই নদীর তলদেশে রয়েছে চুণা পাথরের বিশাল ভাণ্ডার। এর ফলে নদীর জলে তৈরি হয়েছে এক রঙিন রহস্য। বলতে গেলে নদীর উপরে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক সাঁকো আর তলদেশের চুণা পাথর এক মায়ার জগৎ তৈরি করেছে। তারমধ্যে এই নদীপথে জঙ্গলের স্থানে স্থানে রয়েছে ছোট ছোট ঝরণা এবং অগভীর লেক। যাতে সূর্যের আলো এক মায়াবি পরিবেশের জন্ম দেয়। গুয়াতেমালা সিটি থেকে এই স্থানের দূরত্ব ২৯৬ কিলোমিটার।

ছি-ছি কাস্তেনানগো

 

ছি-ছি কাস্তেনানগো

কেমন ছিল মায়া সভ্যতা? কেমন ছিল মায়া সভ্যতার আমলের ব্যবসায়িক লেনদেনের পদ্ধতি? তারই স্মৃতি বহন করছে ছি-ছি কাস্তেনানগো। আসলে একটি বাজার। যেখানে আজও ব্যবসায়িক লেনদেন হয় মায়া সভ্যতার নিয়ম-কানুনকে মাথায় রেখে। এই বাজারে বিক্রি হওয়া জিনিসপত্র থেকে শুরু করে এর আবহ এক আকর্ষণ তৈরি করে পর্যটকদের কাছে। গুয়াতেমালা সিটি থেকে ১৪৬কিলোমিটার দূরে বসে এই বাজার।

অ্যান্টিগুয়া ক্যাথিড্রাল

 

অ্যান্টিগুয়া ক্যাথিড্রাল

১৫৪১ সালে এই ক্য়াথলিক গীর্জাটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, তারপর একাধিকবার ভূমিকম্পের কবলে পড়ে গীর্জাটির বিপুল ক্ষতি হয়। ১৭৭৩ সালে গুয়াতেমালার ভয়াবহ ভূমিকম্পে গীর্জাটির অধিকাংশ অংশই ভেঙে পড়ে। তবে, এর স্থাপত্য আজও দেখার মতো।

রয়্যাল প্যালেস

 

রয়্যাল প্যালেস

এককালে স্প্যানিশ উপনিবেশের শাসনকার্য চলত এই রয়্যাল প্যালেস থেকে। ১৫৫৮ সালে তৈরি হওয়া এই রয়্যাল প্যালেস এখন পরিণত হয়েছে একটি হোটেলে। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রসংঙ্ঘের হেরিটেজ বিভাগ এটিকে ‘হেরিটেজ’-এর তকমা দেয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*