আইনস্টাইনের সুখ-সূত্র উদ্ধার ৯৫ বছর পর


আইনস্টাইনের সুখ-সূত্র উদ্ধার ৯৫ বছর পর

ছবি সৌজন্য- টুইটার@@BlackPhysicists


নোবেল পুরস্কার পাওয়ার একবছর পর ১৯২২ সালে জাপানে একটি বক্তৃতা দিতে যান আইনস্টাইন। টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে উঠেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন কোনও এক ব্যক্তি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যক্তিকেই নাকি আইনস্টাইন নিজের হাতে লিখে দিয়েছিলেন দু-চার কথা। জার্মান ভাষায় লেখা সেই নোট ৯৫ বছর পর আজ সংবাদ শিরোনামে।
তাতে নাকি লেখা আছে, “সুখী হওয়ার মন্ত্র”। একটি নোটে আইনস্টাইন লিখেছেন, “নিরন্তর অস্থিরতাযুক্ত সাফল্যের চেয়ে শান্তিপূর্ণ সাধারণ জীবন অনেক বেশি আনন্দের।” আরেকটিতে তিনি লিখেছেন, “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।”

সাধারণত হোটেলের রুমে কেউ কিছু দিতে এলে, টিপ দেওয়াটা রেওয়াজ। কিন্তু জাপানের সংস্কার মেনে অতিথিদের কাছ থেকে টিপ নেওয়া অন্যায়। সম্ভবত সেই কারণেই ওই বার্তাবাহক টিপ নিতে চাননি। কিন্তু, কিছু একটা না দিলেও নয়। শেষে হাতের কাছে পেয়ে যান ইম্পেরিয়াল হোটেলের নাম ছাপানো রাইটিং প্যাড। তাতেই লিখে দেন একটি লাইন। বার্তাবাহকের হাতে তুলে দিয়ে নিজেই বলেন, “যদি তুমি ভাগ্যবান হও, এই নোটগুলি অন্য সাধারণ বকশিসের চেয়ে তোমার কাছে বেশি দামি হবে।”

তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন এই বার্তাবাহক সাধারণ টিপের জন্য নয়। হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন এই বার্তাবাহকের হাত ধরেই গোটা একটা শতাব্দী পর মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তাঁর আরও একটি তত্ত্ব “Theory of peace and tranquality”।

বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী সারাজীবন সত্যেরই অনুসন্ধান করেছেন। নাম, যশ সাফল্য পেয়েও হয়তো শান্তি খুঁজছিলেন। ছোট্ট চিরকূটে লেখা সেই সূত্রই তিনি তুলে দিয়েছিলেন কোনও দূতের হাতে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*